২৬ অক্টোবর দেশে প্রথমবারের মতো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা

 ২৬ অক্টোবর দেশে প্রথমবারের মতো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার থেকে স্টেমসেল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। এ পর্যন্ত চারজন রোগীকে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে ব্লাড ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার এ আধুনিক পদ্ধতি সেদিনই প্রথম বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স জেনারেল হাসপাতালে (এমজিএইচ) যে পরিবেশ ও মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনের দশম তলায় অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্রেও সে পরিবেশ ও মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য স্থাপিত কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার মান ও পরিবেশের কোনো বিচ্যুতি ঘটানোর অবকাশ নাই। দেশের মানুষ যেন কমখরচে যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের সেবা পায় তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে তিনি নির্দেশ দেন। এ কেন্দ্র স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এ উল্লেখযোগ্য ঘটনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করানো হয়েছে। এ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি সংরক্ষণেও সকলকে সচেতন থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, এ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা যেন দীর্ঘদিন
চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার মোঃ সিফায়েত উল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান, এমজিএইচ-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বিমলাংশু দে এবং অস্থিমজ্জা কেন্দ্রের প্রধান ডা. এম এ খান বক্তৃতা করেন।
এখন থেকে দেশেই স্থায়ীভাবে এ কার্যক্রম চলবে। ৮জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং ৫জন টেকনিশিয়ানের একটি দল এ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবেন।
এ কেন্দ্র স্থাপনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে একে খান ফাউন্ডেশন। কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক সহায়তা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্স জেনারেল হাসপাতাল।