মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে মোটরসাইকেল চোরচক্রের কয়েকটি গ্রুপকে আটক

মাদারীপুরে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত কয়েকটি গ্রুপ আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন। গত ছয় মাসে এ ধরণের সক্রিয় চোরচক্রকে আটকের পর জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানা গেছে, মাদারীপুরে একাধিক আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। গত এক বছরে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এনএসআই অফিস, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারসহ অসংখ্য বাসা-বাড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙ্গে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জনমনে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত গত ছয় মাসে ৪টি মোটরসাইকেল চোরচক্রের সক্রিয় সদস্যকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ডিবি পুলিশের এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের প্রধান মহম আলী গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া মাদারীপুরের এনএসআই এক কর্মকর্তার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলসহ ওই চক্রের সদস্যদের বিশেষ অভিযানে আটক করে এসআই মোবারক হোসেন। এছাড়াও টাওয়ার স্থাপনের নামে প্রতারকচক্র ও বিভিন্ন স্থানে ঘরের দরজা ভেঙ্গে চুরির ঘটনায় বেশ কয়েকটি চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুর ডিবি পুলিশের এসআই মোবারক হোসেন বলেন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও প্রযুক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেল চোরচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, যেখানে সেখানে থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন বলতে গেলে বিব্রত। এ ধরণের চোরচক্রকে ধরতে পুলিশে সকল ইউনিটকে বিশেষ করে গোয়েন্দা পুলিশকে সতর্ক থাকার এবং চোরচক্রের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপের পর মাদারীপুরে মোটরসাইকেল চুরি কমে এসেছে। এছাড়া এর আগে বেশ কয়েকটি অভিযানে মূল হোতারা আটক হওয়ায় মোটরসাইকেল চোরচক্রের প্রভাব এখন নেই বললেই চলে। আগামীতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।