মাদারীপুরে আবাসিক এলাকায় স্থাপিত ইটভাটায় এ কেমন জুলুম!

বিশ্লেষণ প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর এলাকায় আবাসিক এলাকায় স্থাপিত পদ্মার ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার কারণে অতিষ্ট এলাকার মানুষজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার এক পরিবার ইটভাটার সাথে জড়িত ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মতিন বেপারী, আবুল বেপারী ও আবুল মাতুব্বর এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আসাদুল সরদার ও ইউসুফ আলী শেখকে, যাদের বর্তমান ঠিকানা ওই পদ্মা ব্রিকস।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের শর্ত না মেনেই সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকায় ইটভাটার চুল্লী স্থাপন করে কাজ শুরু করে ‘পদ্মা ব্রিকস’। আগুনের ধোঁয়ায় ওই এলাকার বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা ও জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয় চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের ফিরোজ খানের পরিবার। ফিরোজ খানের স্ত্রী লিলি বেগম নিজ নামে ২০১২ সালে স্থানীয় সোবাহান খালাসীর কাছ থেকে ১৬ শতাংশ জমি কিনে ঘর-বাড়ি তুলে বসবাস করে আসছেন। এদিকে দিনে দিনে ওই ইটভাটাটির পরিধি বাড়িয়ে চারিদিক দিয়ে ওই লিলি বেগমের বাড়ির চারপাশ ইটভাটার কাজে নিয়ে নেয়। মাঝখানে দ্বীপের মত ওই জমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা লিলি বেগমের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য দিয়ে কেনার প্রস্তাব দেয় ইটভাটার মালিকপক্ষকে। কিন্তু তারা তা না করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ ডিসেম্বর ওই বাড়ির মধ্যে ইট রাখার চেষ্টা করে ইটভাটা হিসেবে দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে লিলি বেগম আভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে এমনভাবে ইটভাটার কাজ করা হচ্ছে যাতে আমি বাধ্য হয়ে আমার বসতবাড়ির জমি ছেড়ে চলে যাই। এমনকি তারা হুমকি ও দম্ভ দেখিয়ে বলে যে, ‘জানে বাঁচতে চাইলে জমি ছেড়ে চলে যা। জমি ইটভাটার দখলে থাকবে। পারলে ঠেকাইস।’
বিবাদী পক্ষের প্রধান মতিন বেপারীর কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইটভাটার জন্য ওই মহিলার জমি দখল করার কোন ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ দায়েরের পর বিবাদী পক্ষকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া নালিশী জমির বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ভূমি সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড)কে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।