মাদারীপুরে ঘরের মেঝে ও দেয়ালে জমেছে পানি : জনমনে চাঞ্চল্য

আঞ্জুমান জুলিয়া: মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির ভেতরের মেঝে ও দেয়ালে আজ সকাল থেকে পানি জমে তা দুপুর পর্যন্ত থাকে। কুয়াশা বা শিশিরের মত এই পানিতে ঘরের মেঝেতে ও দেয়ালে পানি দেখতে পেয়ে জনসাধারণের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দ্বিতীয় তলা বা তার উপরে রয়েছে এসব পাকা ভবনের বাসিন্দারা রীতিমত অবাক হয়েছে।
সাধারণত মেঘলা আবহাওয়া বা বর্ষার সময় কোন ভবনের নিচতলার মেঝেতে পানি জমে শ্যাত-শ্যাতে অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার উপরের তলাগুলোতেও এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় একই রকম হয়েছে।
মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ি এলাকার গৃহবধূ এলিনা বেগম বলেন, প্রথমে কিছু বুঝতে পারি নি। পরে পাশের ঘরে গিয়ে দেখি একই অবস্থা। আমরা যে ফ্ল্যাটে থাকি তার নিচতলা ছাড়াও দোতলা ও তিনতলার রুমে সকাল থেকে একই অবস্থা ছিল।
আরেক গৃহবধূ মনজিলা আক্তার জানান, দোতলার টাইলসের মেঝেতেও পানির মত জমে এমন অবস্থা হয়েছে যে, বাচ্চারা হোচট খেয়েছে অনেকবার। বড়দেরও সাবধানে কাজ করতে হয়েছে। এছাড়া ঘরের ড্রেসিং টেবিলে, টয়লেটের আয়নাসহ বিভিন্ন গ্লাসেও এই অবস্থা ছিল অর্থাৎ শিশির মত পানি জমে ছিল। দুপুরের পর আস্তে আস্তে কমে যায়।
পুরানবাজার এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মী নন্দিনী হালদার বলেন, এত পানি জমেছে যে পিছলে পড়ার জোগাড়। এমন অবস্থা আগে কখনও দেখিনি।
সদর উপজেলার মিঠাপুর এলাকার মহসিন মুন্সী জানান, শুধু শহরেই নয়, মাদারীপুরের গ্রাম এলাকায়ও একই অবস্থা। মাদারীপুর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুর গ্রামের আমার বাড়িতে একই অবস্থা হয়েছে।
এদিকে গত রবিবার ঢাকার আকাশে মেঘ জমে তা নিচে নেমে আসে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় মাদারীপুরের এই বিষয়টিকেও অনেকেই বলছেন যে, মেঘ নিচে নেমে আসার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি ঝরে বাতাসের আদ্রতা কমে গেলে এটি কমতে থাকে। আবার কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে এমন হয়। বর্ষার দিনে এমন হয়, লবণ গলে যায়। জানাল, ফ্লোর ভেজা থাকে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাতাসের আদ্রতা বেড়ে যাবার কারণেই মেঝে ঘেমে যায় বা পানি জমে।
এদিকে ফেসবুকে এই ধরণের বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। কেউ বলছে খারাপ লক্ষ্মণ, ভূমিকম্প হতে পারে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এর আগে কয়েকদিন অতিবৃষ্টির কারণে এমন হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে এমন অবস্থা হয়েছিল, তখন তা ছিল শুধু নিচতলায়। এই কারণে স্থানীয় জনগণ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কারণ বর্ষার সময় নিচতলার ভবনের মেঝেতে শ্যাতশ্যাতে অবস্থার সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, বাতাসের আদ্রতা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া আবহাওয়ার বড় ধরণের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে বলেনও মন্তব্য করেছেন অনেকে।