প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভয়ে সরকার শিক্ষা নিয়ে নয়া রাজনীতি শুরু করছে

শিক্ষা জাতির মেরদন্ড। এই শিক্ষাকে নিয়ে সরকার নয়া রাজনীতি শুরু করেছে। সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দোহাই দিয়ে সমস্ত পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় এমন এক ধরনের রুটিন তৈরি করেছেন যা ছাত্রদের জন্য বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। কোন পরীক্ষায় বন্ধ নেই লাগাতরভাবে চলবে। সরকার বলেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে এই নিয়ম করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রশ্নপত্র কারা ফাঁস করছে? এর সাথে জড়িত কে ? সরকার এদিকে খেয়াল করছে না। সরকার শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছে তাই মনে হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে যারা জড়িত তারা সরকারের কামলা। কামলাদের দেখে সরকার সব সময় ভয় পেয়ে থাকে। সরকারের এতটাই ভয় কামলারা বিদ্রোহ করলে সবকিছু ফাঁস হয়ে যাবে। প্রতি বছর বাজেটে সরকার কামলাদের খুশি রাখার জন্য বেতন ভাতা বাড়িয়ে দেন। কামলারা বেশি মাত্রায় বেতন ভাতা পেলেই তাদের দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড থেমে থাকে না। দেখা গেছে অনেক কামলা রাজধানীর বুকে অনেক প¬টের মালিক হয়েছেন। বিদেশের ভার্সিটিতে ছেলেমেয়ে পড়াচ্ছেন। যত দোষ এ দেশের ছেলে মেয়েদের। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তারা ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালাবে কি করে ? এ দিকে সরকার কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে সরকার মনোযোগ দিবে কিভাবে ? তারাতো কামলাদের কাছে জিম্মি। কামলারা যা বলে সরকার তাই করে। পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় যে রুটিন তৈরি করেছে তা কামলাদের কারনেই হয়েছে। কমালারা চায় না দেশের শিক্ষার্থীরা বড় হোক। এখন শিক্ষার্থীরা বুঝে ফেলেছে কামলাদের রাজনীতি। যারজন্যে আজ তারা রাজপথে নেমেছে। রাজপথে নেমে মানববন্ধন মিছিল মিটিং করছে। প্রায় জেলাতেই পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন পালন করেছে। কিন্তু সরকার দমননীতি অবলম্বন করেছে। সরকারের এ নীতির কারণে অভিভাবক মহল ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। সরকার কখনই চান না দেশের লেখাপড়ার মান বাড়–ক। বিশেষজ্ঞদের মতে সরকার শিক্ষাকে নাজুক করে ফেলেছে। এমন কোন পরীক্ষা নেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না। একটা জরিপে দেখা গেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সরকার নিজেই দায়ী। দেশে আইন আছে প্রয়োগ নেই। আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিষিদ্ধ। আইনে আরো উলে¬খ রয়েছে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকবে তাদের শাস্তির বিধান রয়েছে। এ পর্যন্ত কজনের শাস্তি হয়েছে তা কি সরকার দেখাতে পারবে ? জানামতে এক জনেরও শাস্তি হয়নি। আইনের ফাক ফোকর দিয়ে বের হয়ে ফের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যবসায় নেমেছে। এ ব্যবসা খুবই লাভজনক। ব্যবসা করে সরকারের কামলারা রাতারাতি কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন সঠিক নিয়ম নীতি এবং সৎ নিষ্ঠাবান থাকলে কখনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। দেশের স্বার্থে সরকারের উচিত এখনই ব্যবস্থা নেয়া।

কবি কাজী রফিকুল হাসান
কলামিষ্ট